Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ নভেম্বর ২০১৭

হাওর অঞ্চলে বোরো ধান চাষে কৃষক ভাইদের করণীয়


প্রকাশন তারিখ : 2017-11-23

হাওর অঞ্চলে বোরো ধান চাষে কৃষক ভাইদের করণীয়

১. জমির ধরণ অনুযায়ী ধানের জাত ও বীজতলা স্থাপনের সময়

জমির ধরন

নির্বাচিত জাত

বীজতলা শুরুর সময়

নিচু জমি

ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান৪৫, ব্রি ধান৭৪, ব্রি ধান৮১, ব্রি হাইব্রিড ধান৩, ব্রি হাইব্রিড ধান৫

১৫ থেকে ২১ নভেম্বর

(অগ্রাহায়ন মাসের ১ম সপ্তাহ)

মাঝারি ও উঁচু জমি

বিআর-১৬, ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান৫০, ব্রি ধান৫৮, ব্রি ধান৮১, ব্রি হাইব্রিড ধান৩, ব্রি হাইব্রিড ধান৫

বি.দ্র. : যে কোন কারণে বীজতলায় বীজ বপন বিলম্বিত হলে (যেমন- জমি থেকে পানি সরতে দেরি হলে) ড্রামসিডার দিয়ে সরাসরি বপন পদ্ধতি অনুসরণ করলে স্বাভাবিক রোপণের তুলনায় ধান ১০ থেকে ১২ দিন আগেই পাকবে। এতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল থেকে ফসল রক্ষা করা সম্ভব।

২. বীজতলা তৈরি

ক. হাওরের অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি-কান্দা জমি চাষ দিয়ে এবং প্রয়োজনীয় সেচ প্রয়োগের মাধ্যমে জমিকে থকথকে  কাদাময় করুন;

খ. এক বা একাধিক মই দিয়ে জমিটিকে সমান করে ১ মিটার প্রস্থ এবং সুবিধামতো দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট বীজতলা তৈরি করুন;

গ. পাশাপাশি দুইটি বেডের মাঝখানে ১ ফুট প্রশস্ত নালা রাখুন;

ঘ. বেড তৈরির ৩-৪ ঘন্টা পর অঙ্কুরিত বীজ বপন করুন;

ঙ. প্রতি শতকে ২.৫ কেজি বীজ বপন করলে সুস্ত ও সবল চারা পাওয়া যাবে।

৩. মূল জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ

জমির পানি নেমে যাওয়ার পর জমির উপরিস্থ আবর্জনা/কচুরিপানা পরিষ্কার করে এবং একটি চাষ ও মই দিয়ে জমি সমান করে নিম্ন হারে সার প্রয়োগ করুন।

সার প্রয়োগের নিয়মাবলি

সারের মাত্রা

ইউরিয়া সমান তিন কিস্তিতে রোপণের ১৫-২০ দিন, ৩০-৩৫ দিন এবং কাইচথোর আসার ৫-৭ দিন আগে প্রয়োগ করতে হবে। অন্যান্য সার জমি প্রস্তুতের সময় প্রয়োগ করতে হবে। কাইচথোড়ের পরও যদি জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়, তবে বিঘাপ্রতি ৫-৭ কেজি ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করুন।

১. ইউরিয়া ১৫ কেজি/বিঘা

২. ডিএপি ১৫ কেজি/বিঘা

৩. এমওপি ২২ কেজি/বিঘা

৪. জিপসাম ৮ কেজি/বিঘা

৫. দস্তা ১.৫ কেজি/বিঘা

* গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করা হলে এক-তৃতীয়াংশ ইউরিয়া সাশ্রয় হবে এবং কোনো ইউরিয়া উপরিপ্রয়োগের প্রয়োজন নেই।

* ডিএপিিএমওপি/জিপসাম/দস্তা উল্লিখিত মাত্রায় প্রয়োগ করা হলে ধানে পোকামাকড়, রোগবালাই কম হয়এবং ধানের দানা পুষ্ট হয় ও ফলন বাড়ে।

** অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ইউরিয়া সার বেশি ব্যবহার করলে ধান গাছের বাড়বাড়তি বেশি হবে, পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হবে এবং ফলন কম হবে।

 

৪. চারা রোপণ

ক. প্রতি গোছায় দুইটি করে এম মাস বয়সের সুস্থ ও সবল চারা রোপণ করুন;

খ. সারি করে  বোরো ধানের চাড়া রোপণ করুন এবং উত্তর-দক্ষিণ বরাবর সারি করুন;

গ. এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব ৬ ইঞ্চি এবং সারির মধ্যে এক গোছা থেকে অপর গোছার দূরত্ব ৫ ইঞ্চি রাখুন;

ঘ. লোগো পদ্ধতিতে (প্রতি ১০ সার পর এক সারি খালি রাখা) চারা রোপণ করুন। এতে করে বাদামি গাছফড়িংয়ের আক্রমণ কমে যাবে।

৫. সেচ প্রয়োগ

ক. চারা রোপণের  সময় জমিতে ছিপছিপে পানি রাখুন। রোপণের পর ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত জমিতে আধা ইঞ্চির মতো দাঁড়ানো পানি রাখুন;

খ. বোরো জমির ওপরের মাটিতে চুলঠাটা দেখা দেয়ার সাথে সাথে পুনরায় সেচ প্রয়োগ করুন;

গ. চারা রোপণের পর থেকে প্রথম দুই মাস জমিতে ছিপছিপে পানি রাখুন। এতে কার্যকরী কুশির সংখ্যা বাড়বে;

ঘ. কাইচথোড় আসার পর থেকেই ১ ইঞ্চর  মতো দাঁড়ানো পানি রাখুন;

ঙ. ধানের পাকা রঙ ধারণের সময় থেকে ক্রমান্বয়ে জমিতে পানি সেচ বন্ধ রাখুন। এতে করে তাড়াতাড়ি ধানের পরিপক্বতা আসবে।

৬. আগাছা দমন

ক. আগাছা দমনের জন্য রাইস উইডার (নিড়ানি যন্ত্র) ব্যবহার করুন;

খ. শুকনো অবস্থায় জমিতে হালকা নিড়ানি দিন। এতে মাটিতে অক্সিজেনের সংযোগ ঘটবে এবং গাছের শিকড় সুস্থ ও সবল থাকবে এবং মাটির বিষাক্ত গ্যাস বের হয়ে যাবে। এতে ফসলের রোগ-জীবাণুর আক্রমণ কম হবে।

৭. রোগ বালাই দম

ক. জমিতে চারা রোপণের পরপরই বিঘাপ্রতি কমপক্ষে ৫-৭ টি ডাল (শাখাযুক্ত) বিক্ষিপ্তভাবে পুঁতে দিন;

খ. জমিতে কুশি গজানো শুরুর পর থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার করে আলোর ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে উপকারী ও অপকারী পোকার অবস্থান ও সংখ্যা জরিপ করুন এবং স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

৮. ধান কর্তন

ক. জমির শতকরা ৮০ ভাগ ধান পাকার পরপরই শুষ্ক আবহাওয়া দেখে ধান কর্তন করুন;

খ. উঁচু জমির ক্ষেত্রে ধান গাছের গোড়ার দিকে ৮ ইঞ্চি পরিমাণ নাড়া রেখে ফসল কর্তন করুন। পরবর্তী ফসল আবাদের আগে জমির শুকনো নাড়া পৃড়িয়ে ফেলুন। এতে করে বাদামি গাছফড়িংসহ অন্যান্য পোকা ও রোগ-জীবাণু ধ্বংস হবে;

গ. দ্রুত এবং সাশ্রয়ী কর্তনের জন্য সম্ভব হলে রিপার/হার্ভেস্টার ব্যবহার করুন। 


Share with :

Facebook Facebook